২০২৫ সালের শেষের দিকে ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বছরে যারা বৃত্তি পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক তাদের ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ মানবন্টন ও নীতিমালা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। তাই এই পোস্টে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ মানবন্টন ও নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রত্যেক বছরের ন্যায় এ বছরেও ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তাই যারা এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছেন তাদের অবশ্যই ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ মানবন্টন ও নীতিমালা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ মানবন্টন
এবারের ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ মানবন্টন ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা ৫টি বিষয়ের উপরে সর্বমোট ৪০০ নাম্বারে অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হচ্ছেঃ
- বাংলা — ১০০ নাম্বার;
- ইংরেজি — ১০০ নাম্বার;
- গণিত — ১০০ নাম্বার;
- প্রাথমিক বিজ্ঞান — ৫০ নাম্বার;
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় — ৫০ নাম্বার।
বৃত্তি পরীক্ষা এই ৫টি বিষয়ের উপরে মোটমাট ৪০০ নাম্বারের একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই ৪০০ নাম্বার প্রতিটা বিষয়ে কত নাম্বার প্রশ্নে কত মার্ক থাকবে আসুন এই বিষয়ে জেনে নেই।
বাংলা ১০০ মার্ক মানবণ্টন
বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের এই মানবন্টনগুলো তো আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু এগুলোর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা আসলে নম্বর পাওয়ার জন্য জানা খুব দরকারি।
নম্বর বিভাজন ও প্রস্তুতির কৌশল
১। কবিতা ও কবি পরিচিতি (১+১+৮=১০): এখানে ১০ নম্বর পেতে হলে বানান ও বিরামচিহ্ন ঠিক রেখে কবিতার ৮ পঙক্তি লিখতে হবে। কবি ও কবিতার নাম লেখার জন্য বাড়তি ২ নম্বর থাকে, তাই এটাও মনে রাখা জরুরি।
২। শব্দার্থ (১x৫=৫): এই ৫ নম্বর পেতে হলে পাঠ্যবইয়ের ভেতরের ও বাইরের শব্দের অর্থ ভালোভাবে পড়তে হবে। এটা আপনার শব্দভান্ডার যাচাই করে।
৩। বাক্য গঠন (১x৫=৫): শব্দার্থ জানার পর সেই শব্দ দিয়ে সঠিক ও অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করার ক্ষমতা থাকা চাই।
৪। শূন্যস্থান পূরণ (১x৫=৫): এই অংশে নম্বর পেতে হলে পাঠ্যবইয়ের লাইনগুলো ভালোভাবে মনে রাখতে হবে। এটা অনেকটা সঠিক শব্দ বসানোর খেলা।
৫। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (১x৫=৫): এই ৫ নম্বর পেতে হলে পুরো অধ্যায় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। এখানে আন্দাজে উত্তর করা যাবে না।
৬। বিপরীত/সমার্থক শব্দ (১x৫=৫): এই অংশটি ব্যাকরণভিত্তিক। ৫টি শব্দের বিপরীত বা সমার্থক শব্দ লিখলেই নম্বর পাওয়া যায়।
৭। সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (২x৪=৮): এই প্রশ্নগুলোতে মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে ও নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
৮। বিস্তৃত উত্তর প্রশ্ন (৫x৩=১৫): এখানে উত্তরের পরিসর বড় হবে। আপনার চিন্তাভাবনা এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর ধারণা এই অংশে প্রতিফলিত হয়।
৯। মূলভাব লিখন (৫x১=৫): এখানে পুরো কবিতা বা গদ্যের মূল কথাটি সংক্ষেপে লিখতে হয়। অপ্রাসঙ্গিক কথা এড়িয়ে শুধু মূলভাবটি ফুটিয়ে তুলতে পারলেই পুরো নম্বর পাওয়া যায়।
১০। ব্যাকরণ (১x৫=৫): ভাষারীতি পরিবর্তন, পদ নির্ণয় বা ক্রিয়ার কাল নির্ণয়ের জন্য ব্যাকরণের সূত্রগুলো ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।
১১। অনুচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন তৈরি/বিরামচিহ্ন (১x৫=৫): এখানে একটি অনুচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন তৈরি করতে হবে অথবা বিরামচিহ্ন বসিয়ে বাক্যটি শুদ্ধ করতে হবে।
১২। যুক্তবর্ণ বিভাজন (১x৫=৫): যুক্তবর্ণ ভেঙে দেখানো এবং সেই যুক্তবর্ণ দিয়ে একটি নতুন শব্দ তৈরি করতে হবে।
১৩। এককথায় প্রকাশ (১x৫=৫): অনেকগুলো কথাকে একটি মাত্র শব্দে প্রকাশ করার জন্য এই অংশের উত্তরগুলো মুখস্থ করতে হবে।
১৪। ফরম পূরণ/আবেদনপত্র (৫x১=৫): ফরম পূরণ বা আবেদনপত্র লেখার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।
১৫। রচনা লিখন (১২x১=১২): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে রচনার বিষয়বস্তু, ভাষা এবং কাঠামো—সবকিছুতেই দক্ষতা দেখাতে হবে। ভালো নম্বর পেতে হলে সূত্র ব্যবহার করে রচনাটি সাজিয়ে লেখা জরুরি।
আরো দেখুনঃ প্রাথমিক ও ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ সিলেবাস
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ইংরেজি ১০০ মার্ক মানবণ্টন
প্রাথমিক স্তরের ইংরেজি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন নিয়ে জানতে চেয়েছেন। আপনার দেওয়া প্রশ্নগুলোর ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটা পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্নপত্রের একটি সম্ভাব্য কাঠামো। এখানে শুধু নম্বর বিভাজন নয়, প্রতিটি অংশের পেছনে কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার, সেটাও জানা জরুরি।
প্রশ্ন ১-৩: Seen Passage
১। Match the given words to their meanings (১ x ৫ = ৫): এই অংশে পাঠ্যবইয়ের একটি অনুচ্ছেদ দেওয়া থাকবে। সেই অনুচ্ছেদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বাম কলামে এবং সেগুলোর অর্থ বা সমার্থক শব্দ ডান কলামে এলোমেলোভাবে দেওয়া থাকবে। আপনাকে সঠিক শব্দ এবং তার অর্থের মিল করতে হবে। এখানে নম্বর পেতে হলে পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি শব্দের অর্থ ভালোভাবে জানতে হবে।
২। Make meaningful sentence with the given words (১ x ৫ = ৫): এই অংশেও পাঠ্যবইয়ের অনুচ্ছেদ থেকে শব্দ দেওয়া থাকবে। সেই শব্দগুলো ব্যবহার করে আপনাকে অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করতে হবে। শুধু শব্দটা লিখলেই হবে না, পুরো বাক্যটা যেন ব্যাকরণসম্মত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩। Answer the following questions in sentence (৩ x ৬ = ১৮): এটি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন। পাঠ্যবইয়ের অনুচ্ছেদটি ভালোভাবে পড়ে আপনাকে ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৩ নম্বর করে মোট ১৮ নম্বর। এখানে উত্তরগুলো সরাসরি অনুচ্ছেদ থেকে নেওয়া যাবে, তবে নিজের ভাষায় লিখলে আরও ভালো হয়।
প্রশ্ন ৪-৬: Unseen Passage
৪। Fill in the blanks (১ x ৫ = ৫): এটিও একটি অনুচ্ছেদ থেকে আসে। এখানে একটি অনুচ্ছেদ দেওয়া থাকবে, যেখানে কিছু খালি জায়গা থাকবে। ওপরে একটি বক্সে কিছু শব্দ দেওয়া থাকবে, যা থেকে বেছে নিয়ে আপনাকে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে।
৫। Multiple Choice Questions (১ x ৫ = ৫): এখানে ৫টি প্রশ্ন থাকবে, প্রতিটির জন্য ৪টি করে অপশন দেওয়া থাকবে। অনুচ্ছেদটি পড়ে আপনাকে সঠিক অপশনটি বেছে নিতে হবে।
৬। Answer the following questions in sentence (৩ x ৫ = ১৫): এই অংশে ৫টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন দেওয়া থাকবে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলোও অনুচ্ছেদ থেকে খুঁজে বের করতে হবে।
প্রশ্ন ৭-১৩: Grammar & Writing
৭। Make WH questions (১ x ৬ = ৬): এখানে আন্ডারলাইন করা শব্দের ওপর ভিত্তি করে ৬টি WH প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। যেমন, ‘Liza sings really well’-এর জন্য প্রশ্ন হবে ‘Who sings really well?’
৮। Rearrange (১ x ৬ = ৬): এই অংশে এলোমেলো বাক্যকে সাজিয়ে অনুচ্ছেদ তৈরি করতে হবে।
৯। Capitalization and Punctuation (০.৫ x ১০ = ৫): এই অংশে ১০টি ভুল বাক্য দেওয়া থাকবে। আপনাকে ক্যাপিটাল লেটার এবং যতিচিহ্ন ব্যবহার করে বাক্যটি শুদ্ধ করে লিখতে হবে।
১০। Fill up the Form (১ x ৫ = ৫): এই অংশে একটি ফরম দেওয়া থাকবে, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, ইত্যাদি) পূরণ করতে হবে। অথবা দিন, মাস, সময় বা সংখ্যা ব্যবহার করে কিছু তথ্য পূরণ করতে হবে।
১১। Correct form of verbs (১ x ৫ = ৫): এই অংশে ক্রিয়ার সঠিক রূপ ব্যবহার করে ব্র্যাকেটে দেওয়া বাক্যগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে।
১২। Simple personal letter (১০): এই অংশে বন্ধুর বা পরিবারের নিকট একটি লেটার লিখতে হবে।
১৩। Short composition (১০): এই অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে রচনা লিখতে হয়।
এই নম্বর বিভাজন থেকে বোঝা যায় যে, ভালো নম্বর পেতে হলে শুধু মুখস্থ করলে হবে না, বরং ব্যাকরণের নিয়মগুলো ভালোভাবে জানতে হবে এবং লেখার দক্ষতাও বাড়াতে হবে।
গণিত ১০০ মার্ক মানবণ্টন
প্রাথমিক স্তরের গণিত পরীক্ষার নম্বর বিভাজন নিয়ে জানতে চেয়েছেন। আপনার দেওয়া তথ্যগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটি পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার গণিত প্রশ্নপত্রের একটি সম্ভাব্য কাঠামো। এখানে শুধু নম্বর বিভাজন নয়, প্রতিটি অংশের পেছনে কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার, সেটাও জানা জরুরি।
১। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (১০টি) (১ x ১০ = ১০): এই অংশে ১০টি প্রশ্ন থাকবে, প্রতিটির জন্য চারটি করে অপশন দেওয়া থাকবে। সঠিক উত্তরটি বেছে নিতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তর করতে হলে গণিতের সব অধ্যায় সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এখানে দ্রুত ক্যালকুলেশন করার দক্ষতা জরুরি।
২। শূন্যস্থান পূরণ (১০টি) (১ x ১০ = ১০): এখানে ১০টি গাণিতিক বাক্য দেওয়া থাকবে, যার মধ্যে কিছু অংশ খালি থাকবে। আপনাকে সঠিক সংখ্যা বা শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। এটি গণিতের সাধারণ জ্ঞান এবং সূত্র সম্পর্কে আপনার ধারণা যাচাই করে।
৩। সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (১৬টি) (১ x ১৬ = ১৬): ১৬টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সাধারণত এক বা দুই লাইনে দেওয়া যায়। এখানেও দ্রুত সমাধান করার দক্ষতা প্রয়োজন।
৪ থেকে ১১ নং প্রশ্নের প্রতিটির মান সমান (৮ x ৮ = ৬৪): এই অংশটি হলো পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে প্রতিটি প্রশ্নের মান ৮, এবং মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই প্রশ্নগুলোর সমাধানের জন্য বিস্তারিত ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
- চার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সমস্যা: এখানে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের সমন্বয়ে একটি বড় গাণিতিক সমস্যা দেওয়া থাকবে। এই সমস্যার সমাধানে বন্ধনীর ব্যবহার এবং সঠিক ক্রম মেনে চলা জরুরি।
- লসাগু ও গসাগু সম্পর্কিত সমস্যা: লসাগু (লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক) এবং গসাগু (গরিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়ক) সম্পর্কিত একটি বাস্তব জীবনের সমস্যা দেওয়া হবে, যার সমাধান করতে হবে।
- সাধারণ ভগ্নাংশ/দশমিক ভগ্নাংশ সম্পর্কিত সমস্যা: এখানে ভগ্নাংশ বা দশমিক ভগ্নাংশের যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ সম্পর্কিত একটি সমস্যা থাকবে।
- গড় সম্পর্কিত সমস্যা: একাধিক সংখ্যার গড় নির্ণয় অথবা গড় থেকে কোনো সংখ্যা নির্ণয় সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন থাকবে।
- শতকরা সম্পর্কিত সমস্যা: লাভ-ক্ষতি, সুদকষা বা অন্যান্য শতকরা সম্পর্কিত একটি সমস্যা দেওয়া হবে।
- পরিমাপ-এর ক্ষেত্রফল পরিমাপ সম্পর্কিত সমস্যা: দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, ওজন, আয়তন অথবা সময় সম্পর্কিত একটি সমস্যা থাকতে পারে। একইসাথে আয়তক্ষেত্র, সামান্তরিক বা ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল নির্ণয় সংক্রান্ত প্রশ্নও এখানে আসতে পারে।
- জ্যামিতি সম্পর্কিত: নির্দেশনা অনুসারে চিত্র অঙ্কন ও অঙ্কিত চিত্রের বৈশিষ্ট্য লিখন। এখানে যেকোনো একটি জ্যামিতিক চিত্র (যেমন: ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র, বৃত্ত) অঙ্কন করে সেটির বৈশিষ্ট্যগুলো লিখতে হবে।
- উপাত্ত বিন্যস্তকরণ ও জনসংখ্যা সম্পর্কিত সমস্যা: পরিসংখ্যান বা উপাত্ত বিন্যস্তকরণ সম্পর্কিত প্রশ্ন অথবা জনসংখ্যার ঘনত্ব, জন্ম ও মৃত্যুর হার সম্পর্কিত একটি সমস্যা দেওয়া হবে।
এই নম্বর বিভাজন থেকে বোঝা যায় যে, ভালো নম্বর পেতে হলে শুধু মুখস্থ করলে হবে না, বরং প্রতিটি অধ্যায়ের মূল ধারণা এবং সমস্যার সমাধান করার প্রক্রিয়া ভালোভাবে জানতে হবে।
প্রাথমিক বিজ্ঞান ৫০ মার্ক মানবণ্টন
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের এই মানবন্টনগুলো তো আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু এগুলোর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা আসলে নম্বর পাওয়ার জন্য জানা খুব দরকারি।
১. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (৫টি) (১ x ৫ = ৫): এই অংশে আপনার সামনে একাধিক অপশন থাকবে, যার মধ্য থেকে আপনাকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিতে হবে। এই পাঁচ নম্বর পেতে হলে পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। শুধু ওপরের তথ্যগুলো পড়লে হবে না, ভেতরকার খুঁটিনাটি বিষয়ও জানতে হবে। আন্দাজে উত্তর করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২. শূন্যস্থান পূরণ/সত্য-মিথ্যা নির্ণয় (৫টি) (১ x ৫ = ৫): এই অংশটি হলো আপনার সাধারণ জ্ঞান যাচাই করার একটি সহজ উপায়।
- শূন্যস্থান পূরণ: এখানে বাক্যটি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে হয়। পাঠ্যবইয়ের লাইনগুলো যদি ভালোভাবে পড়া থাকে, তাহলে এই অংশের উত্তর করা কঠিন নয়।
- সত্য-মিথ্যা নির্ণয়: এখানে কিছু বিবৃতি দেওয়া থাকবে। আপনাকে বুঝতে হবে যে, বিবৃতিটি সত্য না মিথ্যা।
- মিলকরণ: বাম দিকের কলামের সাথে ডান দিকের কলামের সঠিক মিল করতে হয়। এই তিনটি ধরনের প্রশ্নের যেকোনোটি এখানে আসতে পারে।
৩. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৮টি) (২ x ৮ = ১৬): এই প্রশ্নগুলোতে আপনাকে নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ছোট করে লিখতে হবে। এখানে শুধু উত্তর দিলেই হবে না, উত্তরের মধ্যে মূল বিষয়বস্তুটা যেন ফুটে ওঠে, তা খেয়াল রাখা জরুরি। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ২ নম্বর করে মোট ১৬ নম্বর। তাই উত্তরটি যেন তথ্যবহুল এবং নির্ভুল হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
৪. বিস্তৃত উত্তর প্রশ্ন (৪টি) (৬ x ৪ = ২৪): এটি হলো পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন অংশ। এখানে উত্তরের পরিসর বড় হবে। আপনার চিন্তাভাবনা এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর ধারণা এই অংশে প্রতিফলিত হয়। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ৬ নম্বর করে মোট ২৪ নম্বর। এই অংশে ভালো নম্বর পেতে হলে রচনার বিষয়বস্তু, ভাষা এবং কাঠামো—সবকিছুতেই দক্ষতা দেখাতে হবে। এখানে শুধু মুখস্থ করে উত্তর লিখলে ভালো নম্বর পাওয়া কঠিন।
এই নম্বর বিভাজন থেকে বোঝা যায়, ভালো ফল করার জন্য সব ধরনের প্রশ্নের জন্যই প্রস্তুত থাকা জরুরি।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০ মার্ক মানবণ্টন
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের এই মানবন্টনগুলো তো আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু এগুলোর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা আসলে নম্বর পাওয়ার জন্য জানা খুব দরকারি।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (৫ x ১ = ৫): এখানে আপনার সামনে একাধিক অপশন থাকবে, যার মধ্য থেকে আপনাকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিতে হবে। এই পাঁচ নম্বর পেতে হলে পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। আন্দাজে উত্তর করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শূন্যস্থান পূরণ/সত্য-মিথ্যা নির্ণয়/মিলকরণ (৫ x ১ = ৫): এই অংশটি আপনার সাধারণ জ্ঞান যাচাই করার জন্য দেওয়া হয়। এখানে আপনাকে সঠিক শব্দ বসাতে, বিবৃতিটি সত্য না মিথ্যা তা বলতে, অথবা বাম দিকের কলামের সাথে ডান দিকের কলামের সঠিক মিল করতে হয়। পাঠ্যবইয়ের লাইনগুলো ভালোভাবে পড়া থাকলে এই অংশের উত্তর করা সহজ।
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (৮ x ২ = ১৬): এই প্রশ্নগুলোতে আপনাকে নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ছোট করে লিখতে হবে। এখানে শুধু উত্তর দিলেই হবে না, উত্তরের মধ্যে মূল বিষয়বস্তুটা যেন ফুটে ওঠে, তা খেয়াল রাখা জরুরি। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ২ নম্বর করে মোট ১৬ নম্বর।
বিস্তৃত উত্তর প্রশ্ন (৪ x ৬ = ২৪): এটি হলো পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে উত্তরের পরিসর বড় হবে। আপনার চিন্তাভাবনা এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে গভীর ধারণা এই অংশে প্রতিফলিত হয়। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ৬ নম্বর করে মোট ২৪ নম্বর। এখানে শুধু মুখস্থ করে উত্তর লিখলে ভালো নম্বর পাওয়া কঠিন।
এই মানবন্টন থেকে বোঝা যায়, ভালো ফল করার জন্য সব ধরনের প্রশ্নের জন্যই প্রস্তুত থাকা জরুরি।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৫
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর নীতিমালা নিয়ে জানতে চেয়েছেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। নতুন করে এই পরীক্ষা চালু হওয়ায় কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন তৈরি করা হয়েছে, যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। চলুন, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার মূল নীতিমালাগুলো সহজভাবে জেনে নিই।
১। পরীক্ষার তারিখ ও সময়: ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এটি বার্ষিক পরীক্ষার পর আলাদাভাবে নেওয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
২। যারা পরীক্ষা দিতে পারবে: এই পরীক্ষায় কেবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে না, যা নিয়ে কিছু জায়গায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদও হয়েছে।
৩। শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া: একটি স্কুল থেকে সব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবে না। একটি বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হবে।
শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে তাদের প্রথম সাময়িক (প্রথম প্রান্তিক) পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।
৪। নম্বর বন্টন ও পরীক্ষার ধরন: মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এখানে ৪টি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১০০ নম্বর করে থাকবে।
প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এই দুটি বিষয় একত্রিত করে একটি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখানে প্রাথমিক বিজ্ঞানে ৫০ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ নম্বর থাকবে।
৫। বৃত্তির সংখ্যা ও পরিমাণ: বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লাখ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ— এই দুই ধরনের বৃত্তির টাকার পরিমাণ বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই নীতিমালাগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা যায় এবং বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। এই বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য বা পরিবর্তন এলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে জানা যাবে।






