প্রস্রাব করার পরেও ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ার সমস্যাটা অনেকেরই হয়, তাই না? এটা সত্যি বলতে খুবই বিব্রতকর আর বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। এই সমস্যাটা আসলে শুধু বয়স্কদেরই নয়, কমবয়সী অনেক পুরুষও এতে ভোগেন। কিন্তু ভালো খবর হলো, এই সমস্যাটা কিন্তু সমাধান করা সম্ভব। তাই, এটা নিয়ে আর দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই।
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়ার সমস্যাটা কিন্তু শুধু প্রাপ্তবয়স্কদেরই নয়, অনেক ছোটদেরও হয়। যখন তখন প্রস্রাব ঝরে পড়াটা সত্যি খুব বিব্রতকর আর বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। চলতে ফিরতে বা ওঠা-বসায় এমনটা হলে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এই সমস্যাটা কেন হয় এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী, তা নিয়েই আজ বিস্তারিত আলোচনা করব।
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব কেন হয়
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যা কেন হয়? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই সমস্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, আর কারণগুলো জানা থাকলে চিকিৎসা করানো অনেক সহজ হয়। সাধারণভাবে, এই সমস্যাটি হয় যখন প্রস্রাব ধরে রাখার জন্য দায়ী পেশীগুলো বা মূত্রথলির স্নায়ুগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।
১। পেশীর দুর্বলতা: আমাদের মূত্রথলি এবং এর আশপাশের কিছু পেশী প্রস্রাব ধরে রাখার কাজটি করে। এর মধ্যে পেলভিক ফ্লোর পেশীগুলো মূত্রথলিকে সমর্থন দেয়, আর স্ফিংটার পেশীগুলো মূত্রনালীকে শক্তভাবে বন্ধ করে রাখে যাতে প্রস্রাব না ঝরে।
এই পেশীগুলো যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন সমস্যা হয়। এর কিছু কারণ হলো:
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশীগুলো স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হতে শুরু করে।
- মহিলাদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদানের সময় এই পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
- যাদের দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকে, তাদের পেটের পেশীগুলোর ওপর বারবার চাপ পড়ে, যা পেলভিক ফ্লোর পেশীগুলোকে দুর্বল করে দেয়।
২। মূত্রথলির অতিরিক্ত সক্রিয়তা: অনেক সময় মূত্রথলির পেশীগুলো নিজে থেকেই সংকুচিত হতে থাকে, এমনকি যখন মূত্রথলি পুরোপুরি ভরে না তখনও। এর ফলে হঠাৎ করে তীব্র প্রস্রাবের চাপ আসে, যা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। একে ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার বলা হয়। এই ধরনের সমস্যার পেছনে স্নায়ুর কোনো সমস্যা থাকতে পারে।
৩। পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া: পুরুষদের ক্ষেত্রে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যেতে পারে। এই গ্রন্থি মূত্রথলির নিচে এবং মূত্রনালীর চারপাশে থাকে। যখন এটি বড় হয়ে যায়, তখন এটি মূত্রনালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার কারণে প্রস্রাবের গতি দুর্বল হয় এবং প্রস্রাব করার পরেও ফোঁটা ফোঁটা করে ঝরতে থাকে।
৪। স্নায়ুর সমস্যা: মস্তিষ্ক এবং মূত্রথলির মধ্যে যোগাযোগ হয় স্নায়ুর মাধ্যমে। যদি কোনো কারণে স্নায়ুর ক্ষতি হয় তাহলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক প্রস্রাবের চাপ বুঝতে পারে না, বা মূত্রথলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যার কারণে প্রস্রাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
৫। অন্যান্য কারণ: এছাড়াও কিছু সাময়িক কারণ রয়েছে:
- সংক্রমণ হলে মূত্রথলি জ্বালাপোড়া করে এবং এর স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।
- অতিরিক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য মূত্রথলির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
- কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যা হতে পারে।
এই সমস্যাটির সঠিক কারণ নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কারণের ওপর নির্ভর করে এর চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা হয়। তাই এমন সমস্যা হলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত।
জেনে নিনঃ প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে কি খেতে হয়
ফোটা ফোটা প্রস্রাব বন্ধের উপায়
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব বন্ধের উপায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসাযোগ্য। এর সমাধান নির্ভর করে সমস্যাটির মূল কারণের ওপর, আর তাই প্রথমেই একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলা জরুরি। তবে কিছু সাধারণ উপায় আছে যা এই সমস্যা কমাতে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করতে পারে।
১। পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম করুন: এই ব্যায়ামগুলো মূত্রথলির পেশীগুলোকে শক্তিশালী করে, যা প্রস্রাব ধরে রাখতে সাহায্য করে। দিনে কয়েকবার, প্রস্রাব করার সময় প্রস্রাবের গতি বন্ধ করতে যে পেশীগুলো ব্যবহার করেন, সেগুলোকে ১০ সেকেন্ডের জন্য শক্ত করুন, তারপর ছেড়ে দিন।
২। মূত্রথলির প্রশিক্ষণ নিন: আপনার মূত্রথলিকে ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণ দিন। প্রথমে প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর প্রস্রাব করুন। এরপর ধীরে ধীরে প্রস্রাবের মধ্যবর্তী সময় আধা ঘণ্টা করে বাড়াতে থাকুন। এটি আপনার মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
৩। ওজন কমানোর চেষ্টা করুন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন আপনার মূত্রথলির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ওজন কমালে এই চাপ কমে আসে এবং প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
৪। সঠিক পানীয় নির্বাচন করুন: কফি, চা, কোলা জাতীয় পানীয় এবং অ্যালকোহল মূত্রথলিকে উত্তেজিত করে। এগুলো কম পান করলে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাবের সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
৫। আশযুক্ত খাবার খাওয়া: ফটো ফোটা প্রসাব দূর করতে আশযুক্ত খাবার খাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে মৌসুমী, তিলের বীজ, ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি।
৬। কাঁচা রসুন: প্রসাবের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে রসুন অত্যন্ত কার্যকর। তাই আপনি যদি সকালবেলায় খালি পেটে রসুনের একটি কোষ চিবিয়ে ৭ দিন খেতে পারেন তাহলে অনেক উপকারিতা পাবেন।
৭। নিয়মিত ডুমুর খাওয়া: ডুমুর ফল আমরা প্রায় সকলেই চিনি। এই ডুমুর ফল অনেকেই খাই আবার অনেকেই খাই না। তাই যাদের ফটো ফোটা প্রসাবের সমস্যা আছে তারা যদি প্রতিদিন কাঁচা ডুমুর রান্না করে অথবা কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারেন তাহলে প্রসাব হওয়া সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।তবে রান্না করে খাওয়ার চাইতে কাঁচা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা বেশি।
৮। পর্যাপ্ত পানি পান করুন: অনেকে মনে করেন কম পানি পান করলে এই সমস্যা কমবে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। কম পানি পান করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা মূত্রথলির জন্য আরও জ্বালাপোড়ার কারণ হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করে মূত্রথলিকে সুস্থ রাখা জরুরি।
৯। সঠিক ঔষধ সেবন করুন: কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ব্যবহার করা জরুরি। ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার বা প্রোস্টেট সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের ঔষধ পাওয়া যায় যা এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর।
১০। ডাক্তারের পরামর্শ নিন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলা। তিনিই সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবেন। এটি কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এর সমাধান আছে।
প্রস্রাবের পরও ফোঁটা ফোঁটা পড়ে কেন
প্রস্রাব করার পরেও ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ার সমস্যাটা খুবই সাধারণ এবং বেশ বিব্রতকর। অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।
এর পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। সহজভাবে বলতে গেলে, প্রস্রাব পুরোপুরি বের হয়ে যাওয়ার পরও মূত্রনালীর ভেতরে কিছু প্রস্রাব আটকে থাকার কারণে এমনটা হয়। প্রস্রাবের পর ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব পড়ার ৩টি প্রধান কারণ রয়েছে:
১। মূত্রনালীতে অবশিষ্ট প্রস্রাব: এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ। মূত্রথলি থেকে প্রস্রাব বের হয়ে আসার পর মূত্রনালীর ভেতরের কিছু অংশে, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষের ঠিক নিচে, মূত্রনালীর একটি বাঁক থাকে। এই বাঁকে কিছু প্রস্রাব জমা হয়ে থাকতে পারে। যখন আপনি প্রস্রাব করা শেষে জামাকাপড় পরতে যান বা নড়াচড়া করেন, তখন এই জমা প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা করে ঝরে পড়ে।
২। পেশীর দুর্বলতা: আমাদের পেলভিক ফ্লোর নামের কিছু পেশী রয়েছে, যা মূত্রথলি এবং মূত্রনালীকে সমর্থন দেয়। এই পেশীগুলোই প্রস্রাবের পর শেষ ফোঁটাগুলোকে বের করে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বা কিছু শারীরিক কারণে এই পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যখন পেশী দুর্বল থাকে, তখন তারা শেষ ফোঁটাগুলো বের করার জন্য পর্যাপ্ত চাপ দিতে পারে না, যার ফলে প্রস্রাবের পর ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকে।
৩। প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়া: পুরুষদের ক্ষেত্রে, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের কারণে মূত্রনালী সংকীর্ণ হয়ে যায়, ফলে প্রস্রাব করার সময় গতি দুর্বল হয় এবং মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি হতে পারে না। এর কারণে কিছু প্রস্রাব ভেতরে থেকে যায় এবং পরে ফোঁটা ফোঁটা করে পড়তে থাকে।
প্রস্রাব ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায়
প্রস্রাবের রং ও স্বচ্ছতা দেখে শরীরের অনেক কিছু বোঝা যায়। প্রস্রাব ক্লিয়ার রাখার মানে হলো শরীরকে সুস্থ রাখা। এই উপায়গুলো মূলত শরীরের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য, যা প্রস্রাবকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। চলুন তাহলে প্রস্রাব ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় জেনে নেই।
১। বেশি বেশি পানি পান করা: এটি সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়। যখন আমরা বেশি পানি পান করি, তখন প্রস্রাব পাতলা হয় এবং এর রং হালকা হয়। পানির প্রবাহের কারণে প্রস্রাবের সাথে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা বর্জ্য পদার্থগুলো সহজেই বের হয়ে যায়। এটি অনেকটা পানির পাইপ পরিষ্কার করার মতো কাজ করে।
২। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: ভিটামিন সি প্রস্রাবকে কিছুটা অম্লীয় করে তোলে, যা প্রস্রাবের নালীতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে। তাই লেবু, কমলা, বেরি জাতীয় ফল বা শাক-সবজি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে এবং প্রস্রাবের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
৩। আদা ও রসুন: আদা ও রসুনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (প্রদাহরোধী) এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিয়মিত আদা ও রসুন খেলে তা শরীরের ভেতরে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। এটি সরাসরি প্রস্রাবকে ক্লিয়ার না করলেও, সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।
৪। আখের রস: আখের রস একটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক, অর্থাৎ এটি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বারবার প্রস্রাব হওয়ার কারণে মূত্রনালী থেকে ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায়। তবে এতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় এটি খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
৫। বেকিং সোডা: এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। কিছু লোক প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমাতে বেকিং সোডা ব্যবহার করেন। এটি প্রস্রাবকে কম অম্লীয় করে সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। এটি শরীরের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৬। পানীয় দ্রব্য কম খাওয়া: এখানে “পানীয় দ্রব্য” বলতে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, কার্বনেটেড ড্রিংকস এবং অ্যালকোহলকে বোঝানো হয়। এগুলো মূত্রথলিকে উত্তেজিত করতে পারে এবং প্রস্রাবের রংকে গাঢ় করতে পারে। তাই এগুলো কম পান করলে প্রস্রাব ক্লিয়ার থাকবে।
৭। অভ্যাস পরিবর্তন: প্রস্রাব আটকে না রেখে যখন চাপ আসে তখনই টয়লেটে যাওয়া উচিত। প্রস্রাব আটকে রাখলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির সুযোগ বাড়ে। এছাড়াও, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যেকোনো সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে খুবই জরুরি।
৮। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে প্রস্রাবের রং বা স্বচ্ছতার পরিবর্তন হতে পারে। যদি আপনার এমন হয়, তবে অবশ্যই আপনার ডাক্তারকে বিষয়টি জানাতে হবে। নিজে নিজে ওষুধ পরিবর্তন করা বা বন্ধ করা যাবে না।
সবশেষে বলা যায়, এসব ঘরোয়া পদ্ধতি সাধারণ স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সহায়ক। কিন্তু যদি কোনো গুরুতর সমস্যা, যেমন সংক্রমণ বা অন্য কোনো লক্ষণ থাকে, তাহলে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
বাচ্চাদের ফোটা ফোটা প্রস্রাব কেন হয়
বাচ্চাদের ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব করা বা মাঝে মাঝে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা অনেক বাবা-মায়েরই চিন্তার কারণ। তবে একটা কথা বলে রাখি, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুবই স্বাভাবিক এবং সাধারণত কোনো বড় সমস্যার লক্ষণ নয়। বাচ্চাদের এমন হওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে যেমনঃ
- ছোট বাচ্চাদের মূত্রথলি এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয় না। তাদের স্নায়ুতন্ত্রও প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যথেষ্ট পরিপক্ক হয় না। এটি অনেকটা এমন যে, মস্তিষ্ক আর মূত্রথলির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও ঠিকমতো গড়ে ওঠেনি।
- যে পেশীগুলো প্রস্রাব আটকে রাখে, সেগুলো অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী হয় না। ফলে তারা প্রস্রাবের চাপ বেশি সময় ধরে রাখতে পারে না।
- বাচ্চারা যখন খেলতে বা অন্য কোনো কাজে খুব বেশি মগ্ন থাকে, তখন তারা প্রস্রাবের চাপকে উপেক্ষা করে। শেষ মুহূর্তে যখন টয়লেটে যাওয়ার কথা মনে পড়ে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। এটি একটি অভ্যাসের সমস্যা, শারীরিক কোনো সমস্যা নয়।
- যদি কোনো বাচ্চার প্রায়ই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে, তাহলে মলভর্তি অন্ত্র মূত্রথলির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের কারণে বাচ্চা প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না।
- মূত্রনালীর সংক্রমণে মূত্রথলি খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে বাচ্চা ঘন ঘন প্রস্রাব করে এবং অনেক সময় প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না।
- অতিরিক্ত পরিমাণে মিষ্টি পানীয়, যেমন সফট ড্রিংকস বা মিষ্টি জুস, মূত্রথলিকে উত্তেজিত করতে পারে। ক্যাফেইনও একই ধরনের প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাচ্চা ঘন ঘন প্রস্রাব করে এবং মাঝে মাঝে ফোঁটা ফোঁটা ঝরে।
সাধারণত, এই সমস্যাগুলো বয়সের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু যদি আপনার বাচ্চার এমন সমস্যা নিয়ে আপনার উদ্বেগ থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন শিশুবিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। তিনি সঠিক কারণটি নির্ণয় করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা চিকিৎসা দিতে পারবেন।
ফোটা ফোটা প্রস্রাবে হোমিও চিকিৎসা
আজকে আমি আপনাদের কিছু হোমিওপ্যাথি ওষুধ এর নাম জানাবো যেগুলি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। চলুন তাহলে হোমিও ওষুধের নাম গুলি জেনে নেওয়া যাক।
- Equisetum Hyemale 30 CH
- Caustium 200 CH
এই হোমিওপ্যাথি ওষুধটি কার্যকর হতে পারে। এই ওষুধ খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে দিনে তিনবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে অথবা ৩০ মিনিট পরে জিহ্বায় ৩ ফোঁটা করে নিতে হবে।, দিনে তিনবার।
এইভাবে আপনি যদি এই হোমিও ওষুধ দুটি এক মাস খান তাহলে আপনার ফোটা ফোটা প্রসাব করা এবং ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে ওষুধটি খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
লেখকের শেষ মতামত
ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নিয়ে শেষ মতামত হলো, এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর মূল কারণ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা জরুরি। ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব আসলে কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার একটি লক্ষণ।
এই সমস্যাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসাযোগ্য। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেহেতু এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, তাই নিজে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ঔষধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
একমাত্র একজন যোগ্য চিকিৎসকই সঠিক কারণটি নির্ণয় করে আপনার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেন। এটি একটি বিব্রতকর সমস্যা হতে পারে, কিন্তু এটি গোপন না রেখে সঠিক সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।






